নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) অবস্থিত সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্লান্টের বাণিজ্যিক উৎপাদনে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। গত বছরের ২৭ মার্চ কোম্পানিটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনের অনুমতি পেয়েছিল। গতকাল ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৬৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে কোম্পানিটি। এজন্য রূপগঞ্জে ৩৫ একর জমি ইজারা নিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। কোম্পানিটি জানিয়েছে, উৎপাদন শুরু হলে তারা স্থানীয় বাজারে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়া পণ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখতে পারবে।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৯১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ২৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৮১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৯৭ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল সিঙ্গার বাংলাদেশ।
সিঙ্গার বাংলাদেশের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশের বর্তমানে অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৯৭ লাখ ২ হাজার ৮৩৮। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ দশমিক শূন্য ১, বিদেশী ১ দশমিক ২৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ার সর্বশেষ ১০৭ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৯৬ টাকা ৮০ ও ১৫৪ টাকা ৮০ পয়সা।